ম. মনিরউজ্জামান ছিলেন একজন বহুমাত্রিক গবেষক। তিনি ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দে নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে স্কুল ম্যাগাজিনে লালন সম্পর্কিত প্রবন্ধ প্রকাশের জন্য বাংলার বাউল সম্রাট লালন সাঁইয়ের জীবন, কর্ম ও সাধনা বিষয়ক উপকরণ সংগ্রহ শুরু করেন। অতঃপর ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দ থেকে লালনগীতি সংগ্রহসহ লালন প্রসঙ্গের নানা দিক নিয়ে অনুসন্ধান করেন।
লালন গবেষণার ধারায় আগে কখনো বিস্তারিত আলোচনা হয়নি এমন সব বিষয় নিয়ে আলোকপাত করে এরই মধ্যে তিনি সুশীল সমাজ ও লালন ভক্ত-অনুরাগী পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ করেন। উপমহাদেশের প্রখ্যাত লোকসাহিত্য সংগ্রাহক এবং বাংলাদেশের ফোকলোর চর্চার পথিকৃৎ প্রফেসর মুহম্মদ মনসুরউদ্দীনের ভূমিকাসহ তাঁর লালন জীবনী ও সমস্যা (১৯৭৮) এবং লালন ফকীরের গান (১৯৮৭) গ্রন্থ দুটি উভয় বাংলার গবেষকদের নিকট বিস্ময়কর গ্রহণযোগ্যতা পায়। ম. মনিরউজ্জামানের একটি নবতর তথ্যসম্ভারে চিন্তাউদ্রেকী গ্রন্থ মীর মশাররফ হোসেন প্রসঙ্গে (১৯৮৭)।
কাঙাল হরিনাথ, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল এবং জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির অন্য অনেকের সঙ্গে লালনের সম্পর্ক এবং বহু দুষ্প্রাপ্য তথ্য সংবলিত উপাত্ত নিয়ে তাঁর এক অসাধারণ বিদগ্ধকর্ম সাধক কবি লালন: কালে উত্তরকালে গ্রন্থটি বাংলা একাডেমি ২০১০ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশ করেছে। গ্রন্থটি পরবর্তীকালে হিন্দিতে অনূদিত হয়ে ভারত থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
শিক্ষাগত জীবনে তিনি বিগত শতকের সাতের দশকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে স্নাতক সম্মানসহ স্নাতকোত্তর করেন। পেশাগত জীবনে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির জেলা শাখার প্রধান কর্মকর্তা (জেলা সংগঠক) ছিলেন।
জন্ম: ২০শে সেপ্টেম্বর ১৯৫২, মৃত্যু: ১১ই জানুয়ারি ২০১৪।